অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন কামাল বেপারী

একটি সড়ক দুর্ঘটনা কামাল বেপারীর (৪৫) বাকি জীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অচেতন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি অসুস্থ থাকায় পুরো পরিবারটির পথে বসার অবস্থা হয়েছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উথুরী গ্রামের মৃত শহর আলীর ছেলে কামাল বেপারী নিজ গ্রামে গফরগাঁও-টোক সড়কের পাশে শীতের পিঠা বিক্রয় করে সংসার চালাতেন। কিন্তু গত ৬ নভেম্বর বেপরোয়া একটি অটোরিকসা তাকে চাপা দেয়। এতে কামাল বেপারীর মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়, অন্ডকোষ প্রায় পিষে যায়। প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হয় ও পিঠসহ শরীরের নিচের অংশ ছিলে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উথুরী গ্রামে গফরগাঁও-টোক সড়কের পাশে উনুনে শীতের পিঠা তৈরি করে বিক্রয় করতেন কামাল বেপারী। সকাল-বিকাল পিঠা বিক্রয় করে যা আয় হতো তা দিয়ে ৮ জনের সংসার চলতো। গত ৬ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে দোকান বন্ধের পর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ব্যাটারিচালিত বেপরোয়া গতির একটি অটোরিকসা কামাল বেপারীকে চাপা দিয়ে প্রায় ২০ হাত টেনে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যালের আইসিউতেও জ্ঞান না ফিরায় ও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়ে বলেছে ‘অপারেশন করে মাথার জমাট বাধা রক্ত অপসারণ না করালে জ্ঞান ফিরবে না। অপারেশন করতে প্রায় ২ লাখ টাকার প্রয়োজন। কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ পর্যন্ত চিকিৎসায় হতদরিদ্র পরিবারটি ধার-দেনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছে। কিন্তু অপারেশনের ২ লাখ টাকা যোগার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই পরিবারটি চরম হতাশায় ভেঙে পড়েছেন।
কামাল বেপারীর ছেলে শিপন মিয়া সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে বলেন, আমার বাবার আয়ে ৮ জনের সংসার চলতো। বাবা অসুস্থ থাকায় আমরা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। ধার-দেনা করে এতদিন চিকিৎসা চালাইছি। আমার বাবাকে বাঁচাইতে আপনারা সহযোগিতা করেন। কামাল বেপারীর বিকাশ নম্বর-০১৭৩২২২৮১৮২।

খবর বিশ্ব / আনোয়ারুল কবির মামুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.